কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদন অনুসারে, নেপালে শুক্রবার পর্যন্ত ৫৫০ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। ৯৭৭ জন এখনও নিখোঁজ। তাঁদের মধ্যে ৫১৭ জনই বিদেশি।

উলটপুরাণ! কাঠমান্ডু জানিয়ে দিল, উদ্ধারকাজে অন্য দেশের সাহায্য নিতে তাদের আপত্তি নেই। এর আগে তারা জানিয়েছিল, বিদেশি উদ্ধারকারী দলকে সে দেশে প্রবেশ করতে দেবে না। নেপালে বেড়াতে গিয়ে নিখোঁজ হয়েছেন বহু ভিন্দেশি নাগরিক। কাঠমান্ডুর বিদেশি সাহায্যের প্রস্তাব খারিজ করলে ওই নিখোঁজ পর্যটকদের দেশের রাষ্ট্রদূতেরা চাপ বাড়াতে থাকেন নেপালের উপর। তাতেই নেপাল সিদ্ধান্ত বদলেছে বলে খবর।
কাঠমান্ডু পোস্টকে নেপালের এক সরকারি আধিকারিক বলেন, ‘‘আন্তর্জাতিক মহল থেকে আমাদের উপরে প্রবল চাপ এসেছে। তাদের দেশের নাগরিকেরা যেহেতু নিখোঁজ, তাই তাদের পাঠানো উদ্ধারকারী দলকে অন্তত যাতে নেপালে ঢুকতে দিই, সেই দাবি করেছে তারা।’’ তার পরেই সিদ্ধান্ত বদল করেছে বলেন্দ্র শাহের সরকার। ওই আধিকারিকের কথায়, ‘‘কিছু এলাকায় নির্দিষ্ট সংখ্যক বিদেশি বিশেষজ্ঞকে আমরা যেতে দেব।’’ কাঠমান্ডু পোস্টের প্রতিবেদন অনুসারে, নেপালে বুধবারের হড়পা বানের পরে শুক্রবার পর্যন্ত ৫৫০ জনের দেহ উদ্ধার হয়েছে। ৯৭৭ জন এখনও নিখোঁজ। তাঁদের মধ্যে ৫১৭ জনই বিদেশি। তাঁরা ভারত, আমেরিকা, ইউক্রেন, অস্ট্রেলিয়া-সহ ৩১টি দেশ থেকে গিয়েছিলেন নেপালে।
আগে বলেন্দ্র সরকার জানিয়েছিল, বিদেশি উদ্ধারকারী দলকে তারা ঢুকতে দিতে চায় না দেশে। ভারত-সহ আটটি দেশের প্রস্তাব তারা খারিজ করে দেয়। তারা জানায়, হড়পা বান এবং তার পরবর্তী বিপর্যয়ে নেপালি উদ্ধারকারী দল ও প্রশাসনের উপরেই সরকার আস্থা রাখছে। যদিও বিদেশ থেকে অর্থসাহায্য চায় কাঠমান্ডু। নেপালের বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র লোক বাহাদুর ছেত্রী বলেছেন, ‘‘সাহায্যের প্রস্তাব স্বাভাবিক। আমাদের উদ্ধারকারীরা কাজ করছেন। এই মুহূর্তে আমাদের বাইরের কোনও সাহায্য দরকার নেই।’’
নেপালের বিপর্যয়ে বুধবারই সাহায্যের বার্তা দিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। বলেন্দ্রের সঙ্গে ফোনে কথা বলেছিলেন তিনি। জানিয়েছিলেন, নেপালকে সম্ভাব্য সব ধরনের সাহায্য করবে নয়াদিল্লি। ইতিমধ্যে টন টন ত্রাণসামগ্রী নিয়ে দু’টি বিমান নেপালে পৌঁছেছে। শুক্রবার উড়েছে তৃতীয়টি।
স্থানীয় সূত্রে খবর, নেপালের সেনা এবং পুলিশের তরফেই উদ্ধারকাজে বিদেশি সাহায্য না নেওয়ার জন্য সরকারকে পরামর্শ দেওয়া হয়। তবে কী কারণে এই সিদ্ধান্ত, এখনও তা স্পষ্ট নয়। অনেকে তার জন্য ২০১৫ সালের বিপর্যয়ের প্রসঙ্গ টানছেন। সে বার ভূমিকম্পে নেপালে ৯০০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছিল। অনেক দেশ থেকে উদ্ধারকারীরা গিয়েছিলেন। তাতে উদ্ধারকাজে সমন্বয়ের অভাব লক্ষ করা গিয়েছিল। তবে নেপাল সরকার আনুষ্ঠানিক ভাবে বিদেশি সাহায্য খারিজ করার কোনও কারণ তখন জানায়নি। পরে কূটনৈতিক চাপে সেই সাহায্য নিতে রাজি হয়েছে।