আর কেউ বেঁচে নেই, হড়পা বানে মাটিতে মিশে যায় গোটা স্কুল! গাছে চড়ে রক্ষা আট বছরের শিশুর, দু’দিন পরে খোঁজ পেলেন মা

Spread the love

ছেলেটির বাঁ হাতের মুঠোয় দু’টি ১০ টাকার নোট। সাংবাদিক কর্মীদের জিজ্ঞেস করে জানতে পারেন, কিছুতেই হাসপাতালে আসতে চাইছিল না ঘালে। তাই তাকে সেই টাকা দিয়ে জোর করে আনা হয় হাসপাতালে।

সব আশা ছেড়ে দিয়েছিলেন মাট্টি মায়া তামাং। ভেবেছিলেন দুই ছেলের সঙ্গেই আর কখনও দেখা হবে না। কিন্তু রাখে হরি মারে কে! হড়পা বান যখন ভাসিয়ে নিয়ে যায় তার স্কুল, তখন আট বছরের জ়োয়াল ঘালে গাছে উঠে পড়েছিল। তাতেই প্রাণরক্ষা। তাকে উদ্ধার করে প্রথমে নুয়াকোট জেলার হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। ডান পা ভেঙে গিয়েছিল। তার পরের অংশ আরও নাটকীয়। রয়টার্সের এক সাংবাদিকের সাহায্যেই ছেলেকে ফিরে পেয়েছেন মায়া। দ্বিতীয় পুত্রের খোঁজ পেয়েছেন আগেই।

বুধবার সকাল ৯টা নাগাদ ভোটেকোশী নদীতে যখন হড়পা বান আসে, তখন রুসুয়ার স্কুলে গিয়েছিল ঘালে এবং তার দাদা। দুই ছেলেকে স্কুলে পাঠিয়ে নিশ্চিন্তে বাড়িতে বসে তাঁত বুনছিলেন মায়া। স্বামী জাপানে নির্মাণের কাজ করেন। আচমকাই মায়া শোনেন বিকট এক শব্দ। প্রথমে ভেবেছিলেন ভূমিকম্প। ঘরের বাইরে বেরিয়ে দেখেন, সব কিছু জলের স্রোতে ভেসে যাচ্ছে। মায়ার কথায়, ‘‘ভেবেছিলাম আমার দুই সন্তানও ভেসে গিয়েছে। তাদের সঙ্গে আর দেখা হবে না।’’

ওই জলকাদা ভেঙেই মায়া ছোটেন ছেলেদের স্কুলের দিকে। তাঁর বাড়ি থেকে গাড়িতে প্রায় ১৫-২০ মিনিট। সেখানে তিনি যখন গিয়ে পৌঁছোন, তখন স্কুলবাড়িটাকেই আর খুঁজে পাননি। চারদিকে শুধু কাদামাটি। তাঁর কথায়, ‘‘কোথায় স্কুল? কোথায় পাশের সেই বাজার? শুধুই কাদামাটি, পাথর।’’

সে সময় জঙ্গলে পালিয়ে গিয়ে একটি গাছে উঠে পড়েছিল ঘালে। সেখান থেকেই তাকে উদ্ধার করে পুলিশ। পরে নুয়াকোটের চক্র দেব হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয় তাকে। বৃহস্পতিবার সকাল ১১টা নাগাদ ঘালেকে প্রথম সেখানে দেখতে পান রয়টার্সের সাংবাদিক সাহান বজ্রাচার্য। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের থেকে জানতে পারেন, তাঁর পরিবারের কোনও খোঁজ মেলেনি। আট বছরের ছেলেটির মুখে কাটা দাগ। ডান পা ভেঙে গিয়েছে। বাঁ হাতের মুঠোয় দু’টি ১০ টাকার নোট। সাহানা কর্মীদের জিজ্ঞেস করে জানতে পারেন, কিছুতেই হাসপাতালে আসতে চাইছিল না ঘালে। তাই তাকে সেই টাকা দিয়ে জোর করে আনা হয় হাসপাতালে। সাহানা জিজ্ঞেস করেন, সে কি ভয় পেয়েছে? খুদে বলে, ‘‘না’’। সাংবাদিক ঘালের একটি ছবি তুলে রাখেন আর সেই হাসপাতালে নিজের নম্বর রেখে আসেন। তার পরেই চিকিৎসার জন্য ঘালেকে কাঠমান্ডুতে পাঠানো হয়।

তত ক্ষণে সব আশা ছেড়ে দিয়েছেন মায়া। একের পর এক হাসপাতাল, মর্গ, শিবিরে খোঁজ করেন তিনি। কোথাও দুই সন্তানের খোঁজ পাননি। শেষে তিনি রয়টার্সের সাংবাদিক সাহানার কথা জানতে পারেন। শোনেন, তিনি হাসপাতালে ঘুরে ঘুরে নিখোঁজদের সন্ধান করছেন। তার পরে সাহানাকে ফোন করেন মায়া। তাঁর থেকে যখন শোনেন ঘালের কথা, প্রথমে বিশ্বাস করতে পারেননি। শেষে সাহানাই তাঁর কাঠমান্ডু যাওয়ার ব্যবস্থা করে দেন। সেখানে গিয়ে শুক্রবার খোঁজ পান ছেলের। অন্য পুত্রেরও খোঁজ পেয়েছেন। রুসুয়া এখন শুধুই ধ্বংসস্তূপ। কবে স্বাভাবিক ছন্দে ফিরবে, তা 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *