সপ্তাহশেষে ছোট্ট সফর করতে চান? মেঘ-পাহাড়ের খেলা দেখতে উত্তরবঙ্গ নয়, যেতে পারেন পাথর ডুংরিতেও।

দূর তবে, খুব বেশি নয়। সড়কপথে কলকাতা থেকে ঘণ্টা ছয়-সাতেকের পথ। পৌঁছোনো যাবে ট্রেনেও। ভোরে বেরিয়ে পড়লে দুপুরেই পৌঁছে যেতে পারবেন এমন ঠিকানায়, যেখানে ধোঁয়াটে মেঘ নিমেষে ঢেকে ফেলে আস্ত পাহাড়। যেখানে নেই কোলাহল, দোকানপাট। আছে শুধু বুক ভরে নেওয়ার মতো বিশুদ্ধ বাতাস।
এই জায়গার নাম পাথর ডুংরি। বর্ষার পুরুলিয়ার রূপ উপভোগে চলুন সেখানেই। অযোধ্যা পাহাড়ের অনতিদূরে ছোট্ট একটি পাহাড়কে কেন্দ্র করেই পর্যটনের প্রসারের চেষ্টা শুরু হয়েছে। সবুজ টিলা কখনও ঢাকে মেঘে। সেই মেঘ কাটলে তা স্পষ্ট হয়ে ওঠে। বৃষ্টির স্পর্শে আশপাশ এখন ঘন সবুজে ঢাকা।
আরও পড়ুন:
‘ডুংরি’ শব্দের অর্থ পাহাড় বা টিলা। সেই হিসাবে পাথর ডুংরি হল পাথরের টিলা। যদিও বৃষ্টির ছোঁয়ায় সেই ঢিলাও এখন ঘন সবুজ। পুরুলিয়ার বলরামপুর ব্লকের শিরিঙ্গি এবং নেকরে গ্রামের কাছেই রয়েছে সেই টিলাটি।
এখান থেকে অযোধ্যা পাহাড় খুব বেশি দূরে নয়। বৃষ্টিভেজা পুরুলিয়ার আনাচকানাচের শোভা উপভোগ করা যায় দিনভর। চাইলে গোটা দিন গাড়ি নিয়ে ঘুরতে পারেন। দেখে নিতে পারেন মার্বেল লেক, পাখি পাহাড়, মুখোশের গ্রাম চড়িদা, বামনি জলপ্রপাত, টুরগা ফল্স, আপার এবং লোয়ার ড্যাম, খয়রাবেড়া জলাধার। আর না চাইলে দু’টি দিন পাহাড়ের আশপাশের গ্রামগুলি হেঁটে ঘুরতে পারেন। চাইলে টিলায় চড়তেও পারেন। যদিও বর্ষায় টিলায় ওঠা একটু ঝুঁকির।
পাথর ডুংরির সুবিধা হল, এখানে যেমন অলসযাপন করা যায়, তেমন আশপাশের দর্শনীয় স্থানগুলি দেখেও নেওয়া যায়। শহুরে জীবনযাপন থেকে প্রকৃতির কোলে যদি ক্ষণিকের নির্জনতাই কাম্য হয়, এই স্থান তারই জন্য।
কোথায় থাকবেন?
পাথর ডুংরিতে একটি বেসরকারি রিসর্ট তৈরি হয়েছে। চাইলে অযোধ্যা পাহাড়ে থেকেও পাথর ডুংরি ঘুরে নিতে পারেন। সেখানেও একাধিক হোটেল, রিসর্ট রয়েছে।
কী ভাবে যাবেন?
কলকাতা বা যে কোনও স্থান থেকেই সড়কপথে পাথর ডুংরি পৌঁছোনো যায়। কলকাতা থেকে দূরত্ব প্রায় ২৯০-৩০০ কিলোমিটার। কোলাঘাট, ঝাড়গ্রাম, বেলপাহাড়ি, ঝিলিমিলি, বান্দোয়ান, বলরামপুর হয়ে যাওয়া যায়। মোটমুটি ৬-৭ ঘণ্টা সময় লাগবে।
হাওড়া থেকে রাত সাড়ে ১১টায় আদ্রা-চক্রধরপুর এক্সপ্রেস ধরলে সকাল ৭টা ১০ নাগাদ পৌঁছে যাবেন বরাভূম স্টেশনে। সেখানে থেকে গাড়িতে পাথর ডুংরি।