ভারতে কম করেও ৫০ শতাংশ পুরুষ ভুগছেন উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায়। মহিলাদের ক্ষেত্রে এই সংখ্যা ৩৬ শতাংশের বেশি। ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চের (আইসিএমআর)সমীক্ষা অনুযায়ী, ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সি মহিলাদের প্রতি দশ জনের একজন আক্রান্ত উচ্চ রক্তচাপের সমস্যায়।

রক্তচাপের সমস্যা বয়স্কদেরই কেবল হয়, এই ধারণাকে আর ঠিক বলা যাবে না। রক্তচাপের তারতম্যে এখন বেশি ভুগছেন কমবয়সিরাই। বিশেষ করে মহিলারা এ সমস্যায় বেশি ভুগছেন বলে দাবি করা হয়েছে। নানা সমীক্ষার ফলাফলে দেখা গিয়েছে, ২০ থেকে ৩০ বছর বয়সি মহিলারাই ভুক্তভোগী। অস্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া, অতিরিক্ত নেশার কবলে পড়ে রক্তচাপ ওঠানামা করছে। এমন পরিস্থিতিতে কী করণীয়, কোন কোন লক্ষণ দেখে মহিলাদের আগে থেকেই সতর্ক হতে হবে, সে নিয়ে পরামর্শ দিয়েছে ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ মেডিক্যাল রিসার্চ (আইসিএমআর)।
রক্তচাপ হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়া ভাল লক্ষণ নয়। এর থেকে হার্ট অ্যাটাকও হতে পারে। যদি দেখেন, বুক ধড়ফড় করছে, মাথা ঘোরা বা বমি ভাব রয়েছে, চোখের সামনে সব অন্ধকার দেখতে শুরু করেছেন, সেই সঙ্গেই হাত-পায়ের পেশিতে টান ধরছে, তা হলে সতর্ক হতেই হবে।
রক্তচাপ জনিত সমস্যাকে দু’ভাগে ভাগ করা যায়— এসেনশিয়াল বা প্রাইমারি এবং সেকেন্ডারি। সমীক্ষা বলছে, এসেনশিয়াল হাইপারটেনশনই বেশি দেখা যাচ্ছে। দ্বিতীয়টির কারণ নিয়ে গবেষণা চলছে। রক্তচাপ ১৪০/৯০ ছাড়ালেই উচ্চ রক্তচাপে আক্রান্ত বলা যায়। যে কোনও সুস্থ ব্যক্তির স্বাভাবিক রক্তচাপ হওয়া উচিত ১২০/৮০। যদি কারও রক্তচাপ ১৪০/৯০-এর বেশি হয়, তখন তার রক্তচাপ বেড়েছে বলা যায়।
চিকিৎসকেরা জানাচ্ছেন, বাড়তি ওজন কমানো প্রথম কাজ। ওজন বাড়তে শুরু করলে রক্তচাপও একটি পর্যায়ে গিয়ে অনিয়ন্ত্রিত হয়ে যাবে। তখন ডায়াবিটিস, কোলেস্টেরল, ট্রাইগ্লিসারাইড, হার্টের অসুখের ঝুঁকি বাড়বে। তাই নিয়মিত শারীরচর্চা ও সঠিক ডায়েট করে ওজন কমাতে হবে। বাইরের খাবার, ভাজাভুজি, বেশি তেলমশলা দেওয়া খাবার, প্রক্রিয়াজাত খাবার কম খাওয়াই ভাল। কাজের ফাঁকে নিয়মিত শারীরচর্চা করতে হবে। কিছু পদ্ধতি জেনে রাখা ভাল।
ডিপ ব্রিদিং
রক্তচাপ খুব তাড়াতাড়ি নিয়ন্ত্রণে আনতে শ্বাসের ব্যায়ামই আদর্শ। শান্ত হয়ে বসে গভীর ভাবে শ্বাস নিতে হবে। কিছুক্ষণ শ্বাস ধরে রেখে তা ধীরে ধীরে ছাড়তে হবে। গোটা প্রক্রিয়াটি করতে হবে ১০-২০ সেকেন্ড ধরে। পর পর ৩ সেট করলেই রক্তচাপ বশে থাকবে। এই পদ্ধতি শরীরের প্যারাসিম্প্যাথেটিক স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় করে তোলে। ফলে অত্যধিক উত্তেজনা, অস্থিরতা কমে যায়। হৃৎস্পন্দনের হারও নিয়ন্ত্রিত হয়।
প্রাণমুদ্রা
প্রথমে ম্যাটের উপর সোজা হয়ে বসুন। শ্বাস-প্রশ্বাস একেবারে স্বাভাবিক থাকবে। পিঠ, কোমরও টান টান রাখতে হবে। এ বার দুই হাতের কনিষ্ঠা এবং অনামিকা একত্রিত করে বৃদ্ধাঙ্গুলের কাছাকাছি নিয়ে আসুন। খেয়াল রাখতে হবে অন্যান্য আঙুল যেন ভাঁজ না হয়। এই ভাবে দু’টি হাঁটুর উপর দু’হাত রেখে মিনিট দশেক শান্ত হয়ে বসে থাকার চেষ্টা করুন।
অপানমুদ্রা
দু’টি হাতের তর্জনী-মধ্যমা আর অনামিকা-কনিষ্ঠা জুড়ে রাখুন। এ বার অনামিকা এবং মধ্যমাকে পরস্পরের থেকে দূরে ঠেলে ইংরেজির ‘ভি’ অক্ষরের মতো আকার তৈরি করুন আঙুলের ফাঁকে। বুড়োআঙুল অনামিকার গোড়ায় স্পর্শ করে রাখুন। এই অবস্থায় পদ্মাসনে বসে দু’টি হাত হাঁটুর উপর রাখতে পারেন।