দিল্লি প্রিমিয়ার লিগের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি দল নিলামের বাইরে থেকে তিন জন ক্রিকেটার নিতে পারে। তবে তাঁদের দিল্লির ঘরোয়া লিগে অন্তত পাঁচটি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

নিয়মের ফাঁকের কি সুবিধা নিয়েছেন রাজকুমার শর্মা? প্রভাব খাটিয়ে খারাপ মানের ক্রিকেটারকে কি খেলাচ্ছেন বিরাট কোহলির ছোটবেলার কোচ? এই প্রশ্নই উঠছে দিল্লি প্রিমিয়ার লিগে। বিতর্ক বেড়েই চলেছে। যা ঘটেছে তাতে অখুশি দিল্লি ক্রিকেট সংস্থা।
দিল্লি প্রিমিয়ার লিগে নিউ দিল্লি টাইগার্স দলের কোচ রাজকুমার। সেই দলের ওপেনার দেব চৌধুরীকে নিয়ে চলছে বিতর্ক। আট দলের লিগে পয়েন্ট তালিকায় সকলের শেষে রয়েছে নিউ দিল্লি টাইগার্স। ১০ ম্যাচের মধ্যে মাত্র একটি জিতেছে তারা।
১০ ম্যাচের মধ্যে দু’টিতে ওপেনার হিসাবে খেলেছেন দেব। সাউথ দিল্লি সুপারস্টার্সের বিরুদ্ধে দু’বলে শূন্য রানে আউট হয়েছেন। ওয়েস্ট দিল্লি লায়ন্সের বিরুদ্ধে ২৪ বল খেলে করেছেন ১৬ রান। সেই ইনিংসের পরেই তাঁকে নিয়ে বিতর্ক শুরু হয়েছে।
গোটা ইনিংসে একটিও বাউন্ডারি মারতে পারেননি দেব। তাঁর ব্যাট ধরার কায়দা অদ্ভুত। একটি শট দেখেও মনে হয়নি, আত্মবিশ্বাস রয়েছে। এক স্পিনারের বিরুদ্ধে এক ওভারে পর পর পাঁচটি ডট বল খেলেছেন। তার পরেই প্রশ্ন উঠছে, কী দেখে তাঁকে দলে নেওয়া হয়েছে? কী দেখেই বা তাঁকে ম্যাচে ওপেন করতে পাঠানো হয়েছে? অনেকে বলছেন, দেব তো ব্যাটই ধরতে পারেন না। খেলবেন কী ভাবে?
দিল্লি প্রিমিয়ার লিগের নিয়ম অনুযায়ী, প্রতিটি দল নিলামের বাইরে থেকে তিন জন ক্রিকেটার নিতে পারে। তবে একটি শর্ত রয়েছে। তাঁদের দিল্লির ঘরোয়া লিগে অন্তত পাঁচটি ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা থাকতে হবে। এই নিয়মের বিরোধিতা করেছিলেন দিল্লি ক্রিকেট সংস্থার অ্যাপেক্স কাউন্সিলের চার সদস্য শ্যাম শর্মা, মনজিৎ সিংহ, হরিশ সিংলা ও শিখা কুমার। তাঁদের দাবি, এই নিয়মের ফলে দুর্নীতি হতে পারে। অযোগ্য ক্রিকেটারদের সুযোগ দেওয়া হতে পারে।
দেবের ইনিংসের পর সংবাদসংস্থা পিটিআই-কে শ্যাম বলেন, “খুব লজ্জার বিষয়। ওরা নিয়ম করেছে, নিলাম ছাড়াই দিল্লির ঘরোয়া লিগে পাঁচটা ম্যাচ খেলে কেউ দলে সুযোগ পেতে পারে। এটা কি সুযোগ পাওয়ার জন্য যথেষ্ট?”
নিউ দিল্লি টাইগার্স দলের মালিক অমিত বশিষ্ঠ এই বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। কিন্তু দলের এক কর্তা সংবাদসংস্থাকে বলেছেন, “প্রদীপ সাঙ্গোয়ান দেবকে পাঠিয়েছিল। ও দুটো ম্যাচ খেলেছিল। তার পর আমাদের ক্লাবের এক কর্তা ওর বাবাকে ফোন করে বলেছিল, ‘আপনার ছেলেকে নিয়ে যান। ও খেলার যোগ্য নয়।’ ওর বাবা এসে ওকে নিয়েও গিয়েছিল। তারা পর আর ওকে দেখিনি। দিল্লি প্রিমিয়ার লিগে ওকে দেখে আমরা অবাক। জানি না, রাজকুমারের মতো কোচ এটা কী ভাবে হতে দিলেন।”
এই বিষয়ে রাজকুমার এখনও পর্যন্ত কোনও মন্তব্য করেননি। তাতে অবশ্য বিতর্ক কমছে না। যে কোচের হাতে কোহলির মতো বিশ্বের অন্যতম সেরা ব্যাটার তৈরি হয়েছে, সেই কোচ ব্যাট ধরতে না পারা ব্যাটারকে কোন যুক্তিতে ওপেন করতে পাঠালেন? এই প্রশ্নেরই জবাব খুঁজছেন সকলে।